Monday, 23 March 2015




             আঁধার কথা বলে

বাঁশবাগানের পাতার ফাঁকে, সোনার রবি উঠিছে
তারই আলোয় ঝলমলিয়ে, বিশ্বভুবন হাসিছে
টেবিলে রাখা সংবাদপত্র, গরম চায়ের কাপ,
ঘড়ির কাঁটা ঘড়িতে বাঁধা, সময় যে চুপচাপ

পসরা মাথায় চলেছে সবাই, রবিবারের হাটে,
সাদা বলাকা উড়ায় পাখা, শূণ্য নির্জন মাঠে
ছায়া সুনিবিড়, প্রাচীন বট এক, গাঁয়ের সীমানায়,
তাহারি শাখায়, সুখে নীড় বাঁধি, পাখিরা গান গায়

চিল ফুকারে, আকাশ পারে, মাঠে মাঠে সোনা ধান,
মেঠো পথে একতারা হাতে, বেণী বাউল গায় গান
গরুর গাড়ি উড়ায় ধূলো, গাঁয়ের রাঙা মাটির পথে,
রাখাল বাজায় রাখালিয়া সুর, বাঁশি লয়ে নিজ হাতে

মাটির কুটিরে কাঠের ধোঁয়া, ঘুরে ফিরে পাড়াময়
দিনের শেষে সূর্য লুকায়, সাঁঝের আঁধার কথা কয়
          শীতের রাতি জাগে

খোলা আকাশ মাথার উপর, পায়ের নীচে মাটি
তারই পরে সোনালি রোদ, সেজেছে পারিপাটি
পূবের আকাশে সূর্যটা দেখি, লাল হয়ে উঠে,
দিঘির জলে পদ্ম শালুক, উঠেছে কত ফুটে
আকাশ জুড়ে  সুরের মেলা, পাখিরা গায় গীত
উত্তরে হিমেল হাওয়া বয়, এলো আজ শীত
শীতের চাদর জড়িয়ে গায়ে, নেমে আসে কুয়াশা,
আকাশ বাতাস, মাটি ও গাছ, দেখায় সবই ধোঁয়াশা
গরম চায়ের কাপে, চুমুক দিতে আরাম লাগে,

কাঁথা মুড়ে ঘুমায় শহর, শীতের রাতি জাগে
নতুন সকাল

রাতের আঁধারে ঝিঁঝিঁ পোকা
কেঁদে মরে মাথা কুটে
অর্জুন গাছের পাতার ফাঁকে
জোনাকিরা জ্বলে ওঠে
রাতে চাঁদ নেই আকাশে,
তারারা আকাশের গায়
গাঁয়ের নদী, কুলু কুলু রবে
সাগরের পানে ধায়
হৃদয়ে জমানো ব্যথার পাহাড়
কেড়ে নেয় রাতের ঘুম
রাতের আঁধার ধরণীর বুকে
শুয়ে থাকে নিঝ্ঝুম
রাতের শেষে ভোরের আকাশে
শুকতারা কথা কয়
গাছে গাছে শুনি, পাখিদের গান
নতুন সকাল হয়

Friday, 13 March 2015

দোলযাত্রা

পূর্ণিমায় দোলযাত্রা, রঙের বাহার,
হৃদয়ে পুলক জাগে, খুশিতে সবার
ফুটেছে পলাশ ফুল, লোহিত বরণ,
প্রকৃতির শোভা হেরি, হরষিত মন

ব্রজধামে হোলি খেলে, ব্রজের নন্দন,
রাই কানু এক সাথে, সঙ্গে গোপীগণ
রঙে রঙে ব্রজপুরে, ছেয়েছে আকাশ,
আবীর রাঙানো রবি, হাসিছে বাতাস

কচিকাচা, ছেলে বুড়ো, কিশোর কিশোরী,
সবে মিলে হোলি খেলে, মারে পিচকারী
হাতে রং, মুখে রং, রং লাগে গায়ে,
ছোটরা আবীর দেয়, বড়োদের পায়ে

ধন্য পূণ্য দোল যাত্রা, মহা ধূম ধাম
বর্ষে বর্ষে দোল আসে, নাহিক বিরাম