Tuesday, 19 January 2016

মকর সংক্রান্তির মেলা

নদীর ঘাটে বসেছে আজ,
মকর সংক্রান্তির মেলা,
বসেছে দোকান সারি সারি,
আর সার্কাসের খেলা

দু আনার কেনা মাটির পুতুল,
তিন আনার বাঁশি,
হরেক মাল পাঁচ সিকে দাম,
সেথায় ভিড় বেশি

ময়রা ভোলা বসেছে দোকানে,
টাঙায়েছে সামিয়ানা
রসগোল্লা আর পানতোয়া,
সব পাবে আনা আনা

আলুর চপ ও তেলেভাজা,
পাবে তার দোকানে,
চায়ের ও পানের দোকান,
বসেছে এক কোণে

মনিহারীর দোকান কত,
বসেছে সারি সারি,
পুঁতির মালা ও কানের দুল,
দেখতে সুন্দর ভারি

চুড়ি, মালা, খোপার বল,
কিনতে ইচ্ছে হয়,
দাম শুনে মাথায় হাত,
কিনতে লাগে ভয়

মেলার মাঝে খোকন সোনা,
কাঁদছে বসে একা
হারিয়ে গেছে বাবা মা তার,
পায় না কেন দেখা ?

হাসির চেয়ে কান্না দামী,
আজকে মেলার ভিড়ে,
বসেছে মকর-সংক্রান্তির মেলা,

অজয় নদীর তীরে







পৌষ সংক্রান্তির দিনে

পৌষ মাসে পিঠেপুলি, মহা ধূমধাম,
ঘরে ঘরে পিঠে গড়ে, ধন্য পল্লীগ্রাম
দুধপুলি, গুড় পিঠে, নারিকেল আর,
সকলে করিছে পিঠে, সকল প্রকার

গুড় আর তিল দিয়ে, গড়ে পিঠে কেউ,
সারা গাঁয়ে বয়ে যায়, আনন্দের ঢেউ
সরা পিঠে, বাটি পিঠে, দুধ চাঁছি আর,
নলেন গুড়ের গন্ধ, ভাসে চারিধার

পৌষ মাসে শেষ দিনে, টুসু জাগরণ,
সারা রাত টুসু গান, হরষিত মন
পরদিন অতি ভোরে, টুসুর ভাসান,
চৌদলে সাজায়ে সবে, নদীঘাটে যান

নদীতে মকর স্নান, সকলেই করে,

নদীঘাটে মেলা বসে, ঘাট যায় ভরে




ছন্দে ও ছড়ায় (কবিতা)

সকাল হলে সূর্যি ওঠে,
বাগিচায় ফুল ফোটে
আঙিনার সবুজ ঘাসে,
সোনা ঝরা রোদ হাসে

গাঁয়ে যেতে রাস্তার ধারে,
গোয়ালাদের পুকুর পাড়ে
সেখানে এক তেঁতুলগাছে
চড়ুই পাখিরা বসে নাচে

দুপুর বেলা দিঘির ঘাটে
রাজহাঁস সাঁতার কাটে
সরু এক গলিপথ দিয়ে,
বধূরা যায় কলসি নিয়ে

নদীর ধারে বালুচরে,
সাদা বক মাছ ধরে
খেয়া মাঝি বৈঠা বায়,
সাঁঝেরবেলা বাড়ি যায়

সূর্যি ডোবে পশ্চিম পানে,
দিনের শেষে আঁধার নামে
প্রদীপ জ্বলে সাঁঝের বেলা,
আকাশভরা তারার মেলা

নিঝুম রাতে পথের বাঁকে,
হুক্কা হুয়া শেয়াল ডাকে
রাত্তির শেষে সকাল হয়,

পাখিরা ডাকে, সমীর বয়








মোদের গাঁয়ে

মোদের গাঁয়ে, তরুর ছায়ে, ছোট ছোট মাটির ঘর,
গাঁয়ের পাশে, ছোট নদী এক, বয়ে চলে নিরন্তর
পাঠশালে সব, করে কলরব, ছোট ছোট শিশুগণ,
ছুটির পরে, ফিরে আসে ঘরে, পাঠ করি সমাপন

মোদের গাঁয়ে, রাস্তার বাঁয়ে, তাল পুকুরের ধারে,
ফিঙেরা নাচে, বটের গাছে, বক বসে নদী পারে
দুপুর বেলায়, মোদের গাঁয়, গাঁয়ের যত ছেলে,
পুকুরঘাটে, সাঁতার কাটে, দিঘির শীতল জলে

গাঁয়ের ছেলে, ফুটবল খেলে, ফকিরডাঙার মাঠে,
খেলার শেষে, বাড়ি ফিরে আসে, সূর্যি বসে পাটে
সন্ধে বেলায়, প্রদীপ জ্বালায়, গাঁয়ের নতুন বধূ,
বাসায় ফেরে, ক্লান্ত পাখিরা, করে কলবর শুধু

মোদের গাঁয়ে, আঁধার নামে, দিন শেষে রাত আসে,
কুয়াশা ঝরা, শীতের রাতে, হিম পড়ে সবুজ ঘাসে






বিশ্ব কবিতা দিবসে

কবি আমি, কবিতা লিখি,
পুরিল না আশা মোর
বিশ্ব কবিতা দিবসে এবার,
আসুক নতুন ভোর

কুয়াশা ঝরা শীতের সকালে,
অঝোরে বৃষ্টি ঝরে,
কবির লেখনী ক্লান্ত আজিকে,
হাত হতে যায় সরে

কবি আমি, কবিতা লিখি,
পুরিল না আশা মোর
বিশ্ব কবিতা দিবসে এবার,
আসুক নতুন ভোর

কাব্যের সুরে লালিত্য ঝংকার,
রচিছে আশার প্রাসাদ
কাব্যের কড়া হাতুড়ির আঘাতে,
খসে পড়ে বুনিয়াদ

কবি আমি, কবিতা লিখি,
পুরিল না আশা মোর
বিশ্ব কবিতা দিবসে এবার,
আসুক নতুন ভোর

উষর মরূর তরুর শাখায়
শুনি প্রভাত পাখির গান
কবিতার পাতায় বিদ্রোহ আজ,
লালকালিতে দাও টান

কবি আমি কবিতা লিখি,
পুরিল না আশা মোর
বিশ্ব কবিতা দিবসে এবার,
আসুক নতুন ভোর

ভেঙে গেছে আজ দেশ,
মরে গেছে মানুষের মন
দিকে দিকে বিদ্রোহ তাই,
জাগো এবার জনগণ

কবি আমি, কবিতা লিখি,
পুরিল না আশা মোর
বিশ্ব কবিতা দিবসে এবার,

আসুক নতুন ভোর


গাঁয়ের মাটির টান

ফুল ফোটে বনে বনে,
বিহগের কলতান
প্রভাত পাখির কণ্ঠে শুনি
ঘুম ভাঙানোর গান

ভাঙা পাঁচিলে আছে বসে
দেখি ময়না চড়ুই পাখি,
ভোরের বেলা আমবাগানে
উঠলো কোকিল ডাকি

পূব গগনে সূর্য উঠেছে
ফুল ফোটে, মোরগ ডাকে
শিশুরা পড়িছে আপন মনে,
ফেরিওয়ালা রোজ হাঁকে

বাডি আমার পাথরচুড়ে,
অজয় নদীর ধারে
সাদা বকেরা আসে উড়ে
নদীতীরে দুই পাড়ে

আমার গাঁয়ের দক্ষিণেতে
কাঁটা কুলের বন
রাতে সেথা শেয়াল ডাকে
শিউরে ওঠে মন

গাঁ আমার, মাটি আমার,
এই গাঁ আমার জন্মভূমি
এই মাটিতে লভিয়া জনম

সত্যই ধন্য হয়েছি আমি